Breaking News
sehwag-gave-a-bribe-to-the-pakistani-umpire

পাকিস্তানের আম্পায়ারকে ‘ঘুষ’ দিয়েছিলেন সেহওয়াগ!

‘নজফগড়ের নবাব’ বীরেন্দ্র সেহওয়াগ যে ভারতীয় ক্রিকেট ইতিহাসে অন্যতম বিস্ফোরক ওপেনার ছিলেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। যে কোনও ফরম্যাটই হোক না কেন, আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের জোরে সেহওয়াগ সবসময় যে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। মাঠের ভিতরে হোক কিংবা বাইরে তাঁর মেজাজটাই ছিল আসল রাজা।

প্রথম প্রথম তো তাঁর ব্যাটিং স্টাইল দেখার পর অনেকেই একথা বলতে শুরু করেছিলেন যে বীরু সীমিত ওভারের ক্রিকেটের জন্যই একেবারে প্রযোজ্য। টেস্ট ক্রিকেটে তিনি নাকি সেভাবে সফল হতে পারবেন না। তবে তিনি সকল সমালোচককে ভুল প্রমাণ করেন এবং ভারতের সর্বকালের অন্যতম সেরা ওপেনার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি যে ভারতীয় ক্রিকেট দলের ব্যাটিং ডিপার্টমেন্টে ভারসাম্য নিয়ে এসেছিলেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই।

নিজের এই বর্ণাঢ্য কেরিয়ারে বীরেন্দ্র সেহওয়াগ যে একাধিক স্মরণীয় মুহূর্ত তৈরি করেছেন, তা নিয়ে কোনও সন্দেহ নেই। তবে তাঁর অসামান্য ব্যাটিং দক্ষতার পাশাপাশি শোনা যায় তিনি নাকি ম্যাচ আধিকারিকদের মাঝমধ্যেই মিষ্টি কথায় কিংবা অন্য কোনওভাবে প্রভাবিত করতেন। এমনকী তিনি নাকি একবার পাকিস্তানের আম্পায়ার আশাদ রউফকেও ঘুষ দিয়েছিলেন এবং সিদ্ধান্ত নিজের পক্ষে করে নিয়েছিলেন। যদিও গোটা বিষয়টি একেবারে মজার ছলে হয়েছিল।

একটি সাক্ষাৎকারে বীরেন্দ্র সেহওয়াগ নিজেই জানিয়েছেন যে তিনি আম্পায়ারদের নামী সংস্থার জুতো, চশমা এবং টি-শার্ট হামেশাই উপহার হিসেবে দিতেন। যাতে আম্পায়াররা তাঁর বিরুদ্ধে সহজে না আউটের সিদ্ধান্ত দেন। ২০০৮ সালে মোহালিতে টেস্ট ম্য়াচ খেলার সময়েও এমনই একটি ঘটনা ঘটেছিল।

তখন ৮০ রানের চৌকাঠে ব্যাটিং করছিলেন বীরেন্দ্র সেহওয়াগ। মিশেল জনসন তাঁকে একটি শর্ট পিচ ডেলিভারি করেছিলেন। ওই ডেলিভারিতে তাঁর ব্যাটের কানাও লাগে। কিন্তু, পাকিস্তানের ওই আম্পায়ার তাঁর আঙুল তুলতে চাননি। এই প্রসঙ্গে আপনাদের একটা বিষয় জানিয়ে রাখি যে সেই সময় কিন্তু ডিসিশন রিভিউ সিস্টেমের (DRS) কোনও ব্যবস্থাই ছিল না। বীরু বললেন,

‘আশাদ রউফের শৌখিন সামগ্রীর খুব শখ ছিল। উনি নামী সংস্থার চশমা, টি-শার্ট, জুতো এবং অন্য সামগ্রী ব্যবহার করতে ভালোবাসতেন। সেই সময় আমি আদিদাসের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসাডার ছিলাম। সেকারণে আমি মাঝেমধ্যেই ওঁকে ওই সংস্থার চশমা, টি-শার্ট, জুতো উপহার দিতাম। আর মজা করে বলতাম, আমি যখন ব্যাট করব, তখন যেন সহজে আউটের জন্য আঙুল না তোলেন।’

সঙ্গে তিনি আরও যোগ করেন,’উনি ঠিক সেই কাজটাই করেছিলেন। ২০০৮ সালে মোহালিতে অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে খেলেছিলাম। ওই ম্য়াচে খেলেছিলেন ভিভিএস লক্ষ্মণও। মিশেল জনসন আমাকে একটা শর্ট পিচ ডেলিভারি করেছিল। আমি কাট শট মারতে গিয়েছিলাম। বলটি ব্যাটের কানায় লেগেছিল। শব্দটা এত জোরে হয় যে ড্রেসিংরুম পর্যন্ত সেই ব্যাটে-বলের সংঘাতের শব্দ শুনতে পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু রউফ আউট দেননি।’

কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত প্রদান করুন।

About Dipok Deb Nath

Check Also

‘কথা বলার সময়ে সেদিন ধোনির দু’চোখ বেয়ে জল নেমে এসেছিল’

ধোনির কাছে সিএসকে তাঁর পরিবারের মতো। হলুদ জার্সি গায়ে চাপালেই এক অন্য় ধোনিকে দেখা যায়। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.