Breaking News

বারবার আশা জাগিয়ে হারানোর গল্পেই হার ধাওয়ানদের

শেষ ৬ বলে দরকার ছিল ৩১ রান। অঙ্কের হিসাবে মোটেও অসম্ভব কিছু নয়। আবেশ খানের প্রথম দুই বলে ছক্কা আর চার মেরে বুঝি পাঞ্জাব কিংসের সমর্থকদের একটু জাগিয়ে তুলেছিলেন ঋষি ধাওয়ান। আশার বিপরীতে আশা আর কী!

অঙ্কের হিসাব যা-ই বলুক, জয়ের বাস্তব সম্ভাবনা যে পাঞ্জাবের আর নেই, সেটি তো আরও কয়েক ওভার আগ থেকেই পরিষ্কার। শেষ পর্যন্ত ওই দুই বলেই যা আশার গান শোনাতে পারলেন ধাওয়ান। ওভারের তৃতীয় বলে কোনো রান না আসতেই নিশ্চিত হয়ে গেল, আবেশ খান বৈধ তিনটি ডেলিভারি করতে পারলেই লক্ষ্ণৌ সুপার জায়ান্টসই জিতছে।

বৈধ ডেলিভারি তো করলেনই, বাকি তিন বলে কোনো রানও দিলেন না আবেশ। লোকেশ রাহুলের লক্ষ্ণৌয়ের ১৫৩ রান তাড়া করতে নেমে ২০ রানেই ম্যাচটা হেরে গেল শিখর ধাওয়ান, মায়াঙ্ক আগারওয়ালের পাঞ্জাব।

অথচ শুরুটা কী দারুণ করেছিল পাঞ্জাব! পাওয়ার প্লে-র ৬ ওভারে তুলেছে ৪৬ রান, ১০ ওভার শেষে তাদের রানও ছিল লক্ষ্ণৌয়ের সমান ৬৭। কিন্তু ততক্ষণে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা পাঞ্জাব পুরোপুরি পথচ্যুত হয়ে গেল ১৩তম ওভারে লিয়াম লিভিংস্টোন আউট হওয়ার পর। ১২তম ওভার পর্যন্তও রানের হিসাবে পাঞ্জাবে-লক্ষ্ণৌয়ে বলতে গেলে সমানে সমান, কিন্তু ১৩তম ওভারের প্রথম বলে লিভিংস্টোনকে হারিয়ে ফেলার পর যে পিছিয়ে পড়ে পাঞ্জাব, রান-বলের ক্রমবর্ধমান ব্যবধান আর ঘোচানো হয়নি।

লিভিংস্টোন আউট হওয়ার সময় বেয়ারস্টো অপরাজিত থাকলেও আর বেশিদূর এগোতে পারেননি। শেষ ওভারে প্রথম দুই বলে চার-ছক্কায় অবিশ্বাস্য কিছুর ক্ষীণ আশা জাগানো ঋষি ধাওয়ানই যা শেষদিকে কিছু রান করেছেন—২১ বলে ২২।

ঋষিকে নিয়ে পাঞ্জাবের ইনিংসে ২০-এর ঘর পেরোনো ব্যাটসম্যানই দুজন। অধিনায়ক মায়াঙ্ক আগারওয়াল ১৭ বলে ২ চার ২ ছক্কায় করেছিলেন ২৫ রান, তিনে নামা জনি বেয়ারস্টো ২৮ বলে ৫ চারে ৩২।

শুরুতে মায়াঙ্ক একদিকে আগ্রাসন চালিয়ে গেলেও অন্য উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান শিখর ধাওয়ানের ব্যাট কথাই বলেনি—১৫ বলে করেছেন ৫ রান। পঞ্চম ওভারে মায়াঙ্কের পর সপ্তম ওভারে ধাওয়ানও ফিরলেন, তার পরের ওভারে আউট ভানুকা রাজাপক্ষে। ৫৮ রানে ৩ উইকেট নেই পাঞ্জাবের।

চতুর্থ উইকেটে লিভিংস্টোনের (১৬ বলে ১৮ রান) সঙ্গে বেয়ারস্টোর ২৫ বলে ৩০ রানের জুটি আবার আশা জাগায় পাঞ্জাবে। কিন্তু লিভিংস্টোন আউট হতেই যেন সব আশার জলাঞ্জলি! সে সময় ২১ বলে ২১ রান ছিল বেয়ারস্টোর, ১৫তম ওভারে রবি বিষ্ণয়ের ওভারে দুই চারে ১১ রান নিয়ে আবার পাঞ্জাবে আশার সঞ্চার করেন ইংলিশ ব্যাটসম্যান।

কিন্তু আবার আশা জাগতে না জাগতেই সেটি হারিয়ে ফেলার গল্প! দুষ্মন্ত চামিরার করা ১৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে আউট বেয়ারস্টো। তখনো ২৮ বলে ৫১ রান দরকার পাঞ্জাবের, হাতে ৪ উইকেট।

চামিরা ব্যাটে-বলে দারুণ অবদান রেখেছেন লক্ষ্ণৌয়ের জয়ে। ব্যাট হাতে ১০ বলে ২ ছক্কায় ১৭ রানের ছোট্ট ক্যামিও খেলেছিলেন, এরপর বল হাতে ৪ ওভারে ঠিক ১৭ রানই দিলেন, সে পথে তুলে নিলেন পাঞ্জাবের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক দুই ব্যাটসম্যান বেয়ারস্টো ও মায়াঙ্কের উইকেট।

এর আগে টস হেরে লক্ষ্ণৌকে ব্যাটিংয়ে পাঠানোর পর শুরুটা দারুণ হয়েছিল পাঞ্জাবের। শুরুতেই যে আউট লোকেশ রাহুল! আগের ম্যাচেই শতক দেখেছে রাহুলের ব্যাট, সর্বশেষ তিন ম্যাচে দুটি। রাহুল কেমন ছন্দে ছিলেন, সেটি বোঝাতে আর কোনো সংখ্যার দরকার সম্ভবত পড়ে না। কিন্তু আজ ইনিংসের তৃতীয় ওভারে চমকে গিয়ে লক্ষ্ণৌ আবিষ্কার করল, রাহুল ১১ বলে ৬ রান করে আউট!রাবাদার বলে রাহুলের উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফিরেছেন।

রাহুলের ফেরা পাঞ্জাবকে নিশ্চিত স্বস্তি দিয়েছে, কিন্তু পরের ৫৯ বলে ডি কক ও হুদার ৮৫ রানের জুটিতে স্বস্তিটা উধাও হওয়ার জোগাড়। সর্বশেষ তিন ম্যাচ সেভাবে রান না পাওয়া ডি কক ৩৭ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় করেছেন ৪৬ রান, দীপক ২৮ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ৩৪।

কিন্তু এই জুটিতে শেষ আট ওভারে যা আক্রমণের ভিত্তি পেয়েছিল লক্ষ্ণৌ, পাঁচ বলের মধ্যে দুজনকেই হারিয়ে সেটিও হাতছাড়া! এমনই অবস্থা যে, ১৪তম ওভারের তৃতীয় বলে দীপক আউট হওয়ার আগের বল থেকে শুরু করে টানা ২৪ বলে কোনো বাউন্ডারিই পায়নি লক্ষ্ণৌ!

শেষের দিকে দুষ্মন্ত চামিরার ক্যামিও আর জেসন হোল্ডার (১১) ও মহসিন খানের (৬ বলে ১৩) সৌজন্যে দেড় শ পেরিয়েছে লক্ষ্ণৌ। তা-ই যথেষ্ট প্রমাণিত হলো।

কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত প্রদান করুন।

About Cricvive Desk

Cricvive is a sports media company that produces original video, audio, and written content for cricvive.com and other media partners, as well as the general public and news organizations.

Check Also

ওয়ানডেতে ৯৯ রানে আউটের ঘটনা ৩৫ বার, বাংলাদেশের কেবল মুশফিক

গতকাল কলম্বোয় ক্রিকেট ক্যারিয়ারে নতুন এক অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলেন ডেভিড ওয়ার্নার। অস্ট্রেলিয়ার এ তারকা প্রথমবারের …

Leave a Reply

Your email address will not be published.