Breaking News
five-stars-are-the-five-stars-of-pakistan

পাঁচ তারকা পাকিস্তানের পাঁচ তারা তাঁরা

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তান এখনো হারেনি। সুপার টুয়েলভ থেকে সেমিফাইনালে উঠেছে টানা পাঁচ জয়ে। সেমিফাইনালে ওঠা বাকি তিন দলের কেউ অপরাজিত থাকতে পারেনি।

Advertisement

পাকিস্তানের এমন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পেছনে দলীয় সমন্বয়ই সবচেয়ে বেশি চোখে পড়ছে। দলের যখন প্রয়োজন, কেউ না কেউ দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন। আজ শাহিন শাহ আফ্রিদি তো কাল মোহাম্মদ রিজওয়ান, পরশু আসিফ আলী নয়তো শোয়েব মালিক—কেউ না কেউ পারফর্ম করে ম্যাচ জেতাচ্ছেন।

সুপার টুয়েলভে পাকিস্তানের পাঁচ ম্যাচে পাঁচজন আলাদা ক্রিকেটার ম্যাচসেরা হয়েছেন। পাকিস্তান দল হিসেবে কতটা শক্তিশালী, সেটিরই আরেকটি প্রমাণ এটি।

Advertisement

টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে অবশ্য বিশ্লেষকেরা বলেছিলেন, পাকিস্তানের বোলিং বিভাগ শক্তিশালী হলেও ব্যাটিংয়ে ধারাবাহিকতা নিয়ে সন্দেহ আছে। অনেকেই বলেছেন, বাবর আজম ও মোহাম্মদ রিজওয়ানের ওপেনিং জুটির পর একাই ম্যাচ জেতানোর মতো খেলোয়াড় নেই পাকিস্তান দলে।

কিন্তু মাঠের খেলায় এসব সমালোচনা ভুল প্রমাণ করেছে পাকিস্তান। ম্যাচে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতিতে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছেন একেকজন খেলোয়াড়। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হওয়ার পথে শাহিন আফ্রিদির শুরুর সে স্পেলের কথাই ধরুন। অসাধারণ দুটি ডেলিভারিতে রোহিত শর্মা ও লোকেশ রাহুলকে খুব দ্রুত ফেরানোর পর চাপে পড়া ভারত শেষটাও ভালো করতে পারেনি। কারণ শেষ দিকে বিরাট কোহলিকে তুলে নেন পাকিস্তানের এই বাঁহাতি পেসার।

Advertisement

এরপর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচসেরা হলেন পেসার হারিস রউফ। ১৭ রান নিয়ে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা মার্টিন গাপটিলকে ফিরিয়েছেন পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে। ১৮তম ওভারে নিউজিল্যান্ড যখন দ্রুত রান তুলতে মরিয়া, রউফ তখনই মরণকামড় দেন।

ওই ওভারে তিন বলের ব্যবধানে তুলে নেন বিপজ্জনক ডেভন কনওয়ে ও গ্লেন ফিলিপসকে। সব মিলিয়ে ২২ রানে ৪ উইকেট নেওয়া রউফ সেদিন বল হাতে ভারত ম্যাচে শাহিন আফ্রিদির ভূমিকাই পালন করেন।

Advertisement

প্রথম দুই ম্যাচে দুই পেসার এমন পারফর্ম করার পর তৃতীয় ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের মধ্যে কাউকে দাঁড়াতে হতো। এমন একজন এগিয়ে আসেন, যাঁকে নিয়ে গত কয়েক বছর হাসি–রসিকতায় মত্ত ছিলেন পাকিস্তানের সমর্থকেরা। ১২ বলে ২৪ রানের সমীকরণ চার–ছক্কায় মিলিয়ে সেসব রসিকতার পাল্টা জবাব দেন আসিফ আলী। এ টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে তিনি এখন সবচেয়ে বিপজ্জনক ব্যাটসম্যানদের একজন।

চতুর্থ ম্যাচে পাকিস্তানের প্রতিপক্ষ ছিল এবারই প্রথম টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে আসা নামিবিয়া। পাকিস্তানি বোলিংয়ের সামনে নামিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা খাবি খাবেন তা মোটামুটি সবাই জানতেন, ব্যাটিং–টা কেমন হয় সেটাই ছিল দেখার বিষয়। ৫০ বলে ৭৯ রানের অপরাজিত ইনিংসে ম্যাচসেরা রিজওয়ান তা দেখান ভালোভাবেই।

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে কাল দেখা গেল পাকিস্তানি মিডল অর্ডারের শক্তি। প্রতিপক্ষ তুলনামূলকভাবে তেমন শক্তিশালী না হলেও ১৮ বলে ৫৪ রান করা তো চাট্টিখানি কথা নয়! ৩৯ বছর বয়সে এমনই স্ট্রোকসমৃদ্ধ ইনিংস খেলেছেন শোয়েব মালিক। তাতে বোঝা গেল, ব্যাটিং অর্ডারে আসিফ আলীর ওপরেও দ্রুত রান তোলার মতো ব্যাটসম্যান আছে পাকিস্তানের।

সব মিলিয়ে ব্যাটিং–বোলিংয়ে ভারসাম্য নিয়ে পাকিস্তান এবার টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতার পথে ফেবারিট। ১১ নভেম্বর দুবাইয়ে সেমিফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে পাকিস্তান। এ ম্যাচেও পাকিস্তান জিতলে এবং আলাদা কেউ ম্যাচসেরা হলে তখন ফাইনালে সপ্তম তারকার খোঁজ করবে পাকিস্তান। সেটি না হয় তখন হবে পাকিস্তানের সপ্তর্ষি!

কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত প্রদান করুন।

About Dipok Deb Nath

Check Also

গাঁজার থেকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে টি-টোয়েন্টি লিগ, বিরক্ত অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন ক্রিকেটার

বিভিন্ন দেশে টি-টোয়েন্টি লিগ শুরু হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া, ভারত, ইংল্যান্ডে আগেই টি-টোয়েন্টি লিগ ছিল, পরের বছর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.