Breaking News

নিজেদের ‘অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ’ নিয়ে কৌতুক বাটলার-অশ্বিনের

দুজনের কেউই যে এভাবে একসঙ্গে থাকতে খুব আগ্রহী ছিলেন, এমন নয়। ২০১৯ আইপিএলে জস বাটলারকে রবিচন্দ্রন অশ্বিনের মানকাডিং নিয়ে বিতর্কের পর দুজনের মধ্যে সম্পর্কটা আর যা-ই হোক, একেবারে প্রিয় বন্ধুর মতো নিশ্চয়ই ছিল না।সেই অশ্বিন আর বাটলারকেই এবার এক ঘরে এনে মিলিয়েছে আইপিএল। বাটলার তো রাজস্থান রয়্যালসেই ছিলেন, এবার অশ্বিনকেও কিনেছে রাজস্থান। মানকাডিং, অশ্বিন, বাটলার মুখরোচক শিরোনামের তো আর অভাব হয়নি, তবে অশ্বিন আর বাটলার শুরু থেকেই বলে এসেছেন, তাঁরা বিতর্ক পেছনে ফেলে এসেছেন।

তা যে এসেছেন, সেটি আরেকটু স্পষ্ট হলো রাজস্থান রয়্যালসের টুইটারে প্রকাশিত ভিডিওতে। রয়্যালস র‍্যাপিড ফায়ার নামের সেই ভিডিওতে একে অন্যকে প্রশ্ন করেছেন অশ্বিন ও বাটলার। কিছু মজার, কিছু খোঁচা দেওয়া, কিছু শুধুই ক্রিকেটবিষয়ক। সেখানে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক নিয়েও কৌতুক করতে ছাড়েননি দুজন। এমনই যে দুজনের সম্পর্কটাকেই মজা করে বলেছেন ‘অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ।’

অশ্বিন শুরুই করেছেন ‘অ্যারেঞ্জড ম্যারেজ’-এর কৌতুক দিয়ে। ‘তুমি কি ভারতীয় রীতিতে পারিবারিকভাবে বিয়ের ব্যাপারে জানো?’—অশ্বিনের প্রশ্ন। বাটলার ‘হ্যাঁ’ বলতেই অশ্বিনের কৌতুক, ‘এটাও অনেকটা সে রকম, আমরা দুজন একটা অ্যারেঞ্জড ম্যারেজে আছি, এখন কথা বলে একে অন্যকে আরেকটু ভালোভাবে জানব।’ শুনেই হাসেন বাটলার! কৌতুকের হাসি অশ্বিনের মুখেও এরপর শুরু প্রশ্নোত্তরপর্ব

অশ্বিন: তোমাকে নেটে খুব কমই ব্যাট করতে দেখি। অনেক থ্রো-ডাউন করো। তা নেটে কোন বোলারকে তোমার সবচেয়ে কঠিন মনে হয়েছে?
বাটলার: এই মুহূর্তে আমাকে যদি বলো, আমি কুলদীপ সেনের বোলিংয়ের সামনে না পড়তে চাইব! ও সবচেয়ে দ্রুতগতির।

ভারতের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবার আইপিএলে বাটলারের সঙ্গে একই দলেভারতের স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিন এবার আইপিএলে বাটলারের সঙ্গে একই দলে এরপর বাটলারের প্রশ্নের পালা, ‘ক্রিকেটকে ঘিরে তোমার প্রথম স্মৃতি কোনটি?’

অশ্বিন: চেন্নাইয়ের একটা একাডেমিতে বড় একটা গাছ আছে। আমার মা–বাবা একটা মোটরসাইকেলে করে আমাকে সেখানে নিয়ে যান, আমি কিট ব্যাগটা সেখানে রাখি। এই তো, ক্রিকেটে প্রথম স্মৃতি এটাই। এখনো চেন্নাই গেলে মাঝেমধ্যে ওই গাছটা দেখতে যাই।

আবার অশ্বিনের পালা, ‘ভক্তদের ঘিরে সবচেয়ে অদ্ভুত স্মৃতি কোনটি তোমার? কেউ বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছে?’

বাটলার: না, সে রকম কিছু নয়। একবার ভারবিয়েরে (সুইজারল্যান্ডের আলপাইন অঞ্চলের একটা গ্রাম) গিয়েছিলাম, কয়েকজন বন্ধু থাকে সেখানে। আমরা স্কিইং করব ভাবছিলাম, স্কিইংয়ের সব সরঞ্জাম পরলাম। ভাবছিলাম, এখানে তো আর আমাকে কেউ চিনবে না। কিন্তু হঠাৎ এক লোক এসে পিঠে টোকা দিয়ে বলল, ‘আপনি তো জস বাটলার, তাই না?’ আমি ভাবছিলাম, এই পাহাড়ের চূড়ায় এসে কেউ একজন কীভাবে একজন ক্রিকেটারকে চিনে ফেলল!

অশ্বিন: ভারতে এমনটা সব সময়ই হয়, বাটলার: ভারতে হয়, সুইজারল্যান্ডে একটু চমকে দেওয়ার মতোই।অশ্বিনের প্রতি বাটলারের পরের প্রশ্নটা হলো অশ্বিনের চোখে বাটলারের সবচেয়ে পছন্দের পারফরম্যান্স নিয়ে। আইপিএলে যত পারফরম্যান্স দেখেছেন, তার মধ্যে কদিন আগে ডিওয়াই পাতিল স্টেডিয়ামে মুম্বাই ইন্ডিয়ানসের বিপক্ষে বাটলারের পারফরম্যান্সের কথা আলাদা করে বলেছেন অশ্বিন। তবে সবার ওপরে রেখেছেন দিল্লিতে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে বাটলারের ইনিংসকে।

কেন, সে ব্যাখ্যাও দিয়েছেন অশ্বিন, ‘ওরা শুরুতে সম্ভবত একটা সুযোগ হাতছাড়া করেছে, ১৩তম ওভারে নবীকে নিয়ে এসেছিল বোলিংয়ে। এরপর তুমি মার শুরু করলে।’ অশ্বিনের মনে হয়েছিল, সেদিন বাটলারকে ‘কেউ আটকাতে পারবে না।’এবার প্রশ্নের সুযোগ পেয়ে অশ্বিন একটু কঠিন প্রশ্নই করলেন বাটলারকে। তিন শব্দে নিজেকে ব্যাখ্যা করো! ইংলিশ ব্যাটসম্যান অবশ্য উত্তরে যে তিনটি শব্দ বলেছেন, সেটি এবারের আইপিএলে তাঁর ব্যাটের ঝড়ের একেবারেই বিপরীত, ‘শান্ত, চুপচাপ, দয়ালু!’ অশ্বিন সেটি নিয়ে মজা করতেই বাটলারের আবার কৌতুক, ‘নিজেকে একটু বড় করে দেখাচ্ছি!’

ভারতে এসে লুঙ্গি পরার অভিজ্ঞতাও হলো বাটলারের এরপর ২০১৩ চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারতের জয় নিশ্চিত শেষ ওভার আর ২০১৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে দক্ষিণ আফ্রিকার হাশিম আমলাকে ফেরানো বলের মধ্যে অশ্বিনকে কোনো একটি বেছে নিতে বলেন বাটলার। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালের শেষ ওভারকেই বেছে নিলেন অশ্বিন

এবার বাটলারকে অশ্বিনের প্রশ্ন, ‘যদি কারও ব্যাটিংয়ের ওপর তোমার জীবন-মরণের ব্যাপার জড়িয়ে যায়, তাহলে কাকে ব্যাট করতে পাঠাবে?’ উত্তরে ভারতের এক কিংবদন্তিকে টেনে নিয়ে আসেন বাটলার, ‘রাহুল দ্রাবিড়!’ অশ্বিনের পাল্টা প্রশ্ন, ‘কেন?’ বাটলারের সহজ উত্তর, ‘সোজা! তিনি দ্য ওয়াল, কারও বলই তাঁকে পেরিয়ে যাবে না। সারা দিন ব্যাট করতে পারবেন।’

এরপর বাটলারের প্রশ্নটি সম্ভবত মানকাডিং বিতর্কের পর এবার অশ্বিন-বাটলারের একই দলে যোগ দেওয়ার পরের সবচেয়ে আকাঙ্ক্ষিত প্রশ্ন, ‘রয়্যালস তোমাকে নিলাম থেকে দলে নেওয়ার পর তোমার প্রথম অনুভূতি কী ছিল?’ অশ্বিনের উত্তর, ‘আমার কিছুটা ধারণা ছিল। খুব একটা আশ্চর্য হইনি। আমার মনে হয়েছে, যে দল আমার জন্য সব সময় নিলামে দর হাঁকিয়েছে, তারা এবারও দর হাঁকাবে। পাশাপাশি তারা জসকে (বাটলার) আমাকে নেওয়ার ব্যাপারে রাজি করিয়েছে (দুজনেরই হাসি)! ওটাই প্রথম ইঙ্গিত ছিল আমার জন্য।’

এই প্রশ্নের সূত্র ধরেই বাটলারকে অশ্বিনের পরের প্রশ্ন, ‘একটু লজ্জাই লাগছে বলতে। আমার ব্যাপারে তোমার প্রথম ধারণা কী ছিল?’ দুজনের হাসির মধ্যে বাটলারের উত্তর শুরুর আগেই আবার অশ্বিনের কপট ভঙ্গির পরামর্শ, ‘ভালো কিছু ভাবো!’ বাটলারের প্রত্যুত্তর, ‘প্রথম ধারণাটা কী ছিল, সেটা তো বলা যাচ্ছে না!’এরপর অবশ্য একেবারে গুরুগম্ভীর উত্তরই হলো বাটলারের, ‘আমি বলব তুমি খেলাটা নিয়ে সত্যিকার অর্থেই ভাবো। তোমার জানাশোনা অনেক। সব সময়ই উন্নতির কথা ভাবো, নিজের বোলিংয়ে উন্নতি আর কী ভিন্ন উপায়ে বোলিং করা যায় সেটি, খেলার বিচিত্র ধারণা এসব নিয়ে ভাবো।’

তারপরের প্রশ্নটা মজারই! অশ্বিনকে বাটলার জিজ্ঞেস করলেন, ‘ধরো তুমি তোমার ইউটিউব চ্যানেলে আমাকে ডাকলে। আমাকে তোমার প্রথম প্রশ্নটা কী হবে?’ শুনেই হাসি অশ্বিনের! কেন, সেটি বোঝা গেল উত্তরে, ‘আমার প্রশ্নটা একটু খোঁচারই হবে—(মানকাডিং নিয়ে) নতুন নিয়মের বদলটা নিয়ে কী ভাবছ?’ এবার বাটলারেরও হাসিতে যোগ দেওয়া!

হাসি থামতে অবশ্য গম্ভীর প্রশ্নই করলেন অশ্বিন, কারিগরি দিক নিয়ে প্রশ্ন, ‘অফ স্টাম্পের বাইরের বলকে তুমি কাভারে ছক্কা মারো কীভাবে?’ বাটলারের উত্তর, ‘আমার সহজাত শট এটা। আমার হাত যেভাবে কাজ করে, তার সঙ্গে সহজে যায় এটা। মুশতাক আহমেদ আমাকে বলেছিলেন, প্রথমে অফ সাইডে বল মারার চেষ্টা করো, তারপর লেগ সাইডে। তুমি যদি লেগ সাইডেই মারতে থাকো, তাহলে অফ সাইডে মারতে পারবে না।’

কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত প্রদান করুন।

About Cricvive Desk

Cricvive is a sports media company that produces original video, audio, and written content for cricvive.com and other media partners, as well as the general public and news organizations.

Check Also

ব্যাট হাতে নেমে পড়লেন কেএল রাহুল! শেয়ার করলেন ভিডিয়ো

কেএল রাহুল কবে টিম ইন্ডিয়াতে ফিরবেন? সেই অপেক্ষায় রয়েছেন লোকেশ রাহুলের সকল ভক্ত। প্রথমে চোট …

Leave a Reply

Your email address will not be published.