Breaking News

লড়াইয়ে সাকিবের কাছে হারলেন বিসিবি সভাপতি পাপন!

সন্তানের কাছে লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত অভিভাবকই হারলেন। ‘জেদী’ সন্তান তার সিদ্ধান্তেই থাকলেন। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ও সাকিব আল হাসানের লড়াইটা টিকই এমনই। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে সাকিবকে নেওয়ার জন্য শেষ ক’টা দিন কত লড়াই করলেন বিসিবি বস।

তবে শেষ পর্যন্ত সাকিব থাকলেন তার সিদ্ধান্তেই। তিনি যাচ্ছেন না আফ্রিকা সফরে। সাকিব যে প্রোটিয়া সফরে যাবেন না, সেটা বেশ আগেই তিনি জানিয়ে ছিলেন। যদিও আগে সেটা আইপিএল কেন্দ্রিক ছিলো। কিন্তু এই অলরাউন্ডার আইপিএলে নিলামে ‘অবিক্রিত’ থেকে যান। এরপর বিসিবি সভাপতি চেয়েছিলেন সাকিব যেনো প্রোটিয়া সফরে যান।

কিন্তুু সাকিব আইপিএলের নিলাম পরেও তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে যাবেন না, সেটা জানিয়ে দেন। তবে ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন চেয়ে ছিলেন সাকিব যেনো আফ্রিকা সফরে যান। সেজন্য তিনি ক্রমাগত চাপও সৃষ্টি করতে থাকেন সাকিবের উপর। প্রকাশ্যে মিডিয়ায় এসে জানিয়ে দেন, সাকিব আফ্রিকা সফরে যাবেন, সেটা তিনি শতভাগ নিশ্চিত। ক্রিকেট বোর্ডের সর্বোচ্চ কর্তার শতভাগ নিশ্চয়তা দেওয়ার পরও এই অলরাউন্ডার গেলেন না।

মিডিয়ায় প্রকাশ্যে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়ে সাকিবকে হয়তো কিছুটা চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন বোর্ড সভাপতি! তাছাড়া চট্টগ্রামে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ শেষে নাজমুল হাসান পাপন সাকিবকে মাঠেই বলেছিলেন, ‘তুমি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসার পর তুমার সাথে বসবো’। বুঝাই যাচ্ছে বোর্ড সভাপতি এই ক্রিকেটারকে আফ্রিকা যাওয়ার একটা নির্দেশনাও দিয়ে ছিলেন।

সাগরিকায় শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে বোর্ড সভাপতি পাপন জানান, ‘কোনো সন্দেহ নেই, সাকিব আফ্রিকা সফরে যাবে আমি শতভাগ নিশ্চিত। আজোর তার সাথে মাঠে কথা হয়েছে, আমি এটুকুই বলেছি, তুমি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসার পর আমরা তুমার সঙ্গে বসবো।’

এভাবে প্রকাশ্যে বলে হয়তো বোর্ড সভাপতি সাকিবের উপর একটা চাপ ফেলতে চেয়েছিলেন, যাতে করে তিনি দলের সঙ্গে আফ্রিকায় ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ খেলতে যান। বিসিবি সভাপতি আরো জানিয়ে ছিলেন যে, সাকিব আগে ছুটি চেয়ে ছিলেন শুধুমাত্র আইপিএলের জন্য। যেহেতু আইপিএলের ব্যস্ততা নেই, তাই প্রোটিয়া সফরে না যাওয়ার কোনো কারণ নেই।

এরপরই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য দল ঘোষণা করে। ওয়ানডে ও টেস্ট দলের স্কোয়াডে রাখা হয় সাকিবকে। তখন অনেকেই ধরে নিয়ে ছিলেন, সাকিব এবার তা হলে আফ্রিকা সফরে যাচ্ছেন। স্কোয়াডে যেহেতু নাম এসেছে, নিশ্চয়ই তিনি প্রোটিয়া সফরে যেতে রাজি হয়েছেন।

তবে এসব কোন চাপকেই ‘চাপ’ হিসেবে নেননি সাকিব। স্কোয়াড ঘোষণার পর তিনি দুবাই চলে গেলেন। বিমানবন্দরে জানিয়ে গেলেন, তিনি এই মুহুর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে চান না। বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেট। তার আগ্রহ নেই এখন ক্রিকেটে। এতোসব চাপ তৈরি করেও বোর্ড সভাপতি সাকিবকে প্রোটিয়া সফরে পাঠাতে পারেননি।

এখন প্রশ্ন তাহলে নির্বাচকেরা কোন যুক্তিতে সাকিবকে স্কোয়াডে রেখে ছিলেন? তারা কি সাকিবের সাথে আলাপ কালে ওয়ানডে ও টেস্ট স্কোয়াডে তাকে রেখে ছিলেন? নাকি তার সাথে যোগাযোগ না করেই স্কোয়াডে রেখে জোর পূর্বক আফ্রিকা সফরে পাঠাতে চেয়ে ছিলেন? এই অলরাউন্ডারের সাথে যদি আলাপ করেই স্কোয়াডে তাঁকে নেওয়া হয়, তবে এখন কেন তিনি যাবেন না?

কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত প্রদান করুন।

About Cricvive Desk

Cricvive is a sports media company that produces original video, audio, and written content for cricvive.com and other media partners, as well as the general public and news organizations.

Check Also

কোহলির কোন রেকর্ড ভাঙলাম? প্রশ্ন বাবর আজমের

দীর্ঘ সময় ধরে ফর্মে আছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক বাবর আজম। ব্যাট হাতে নামলেই ফিফটি, সেঞ্চুরি হাঁকাচ্ছেন। …

Leave a Reply

Your email address will not be published.