Breaking News

শেষ দুই বলে দুই ছক্কায় অবিশ্বাস্য জয় গুজরাটের

আইপিএলের এবারের আসরে প্রথমবারের মতো খেলতে এসে একের পর এক চমক দেখাচ্ছে গুজরাট টাইটান্স। আসরের একমাত্র দল হিসেবে এখন পর্যন্ত অপরাজিত রয়েছে তারা। সবশেষ পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে অবিশ্বাস্য এক জয়ই পেয়েছে হার্দিক পান্ডিয়ার দল। শুক্রবার রাতে ম্যাচটি জেতার জন্য ১৯০ রানের লক্ষ্য ছিলো গুজরাটের সামনে। যা কি না শেষ ২ ওভারে দাঁড়ায় ৩২ রানে। কাগিসো রাবাদার করা ১৯তম ওভারে একটি উইকেট পড়লেও, ১৩ রান তুলে নেয় গুজরাট। তবু শেষ ওভারের জন্য বাকি থাকে আরও ১৯ রান।

ওডিয়েন স্মিথের করা সেই ওভারের দ্বিতীয় বলে রানআউট হন অধিনায়ক হার্দিক। প্রথম চার বল থেকে আসে মাত্র ৭ রান। তবে চতুর্থ বলে শুধু শুধুই ওভারথ্রো থেকে সিঙ্গেল দিয়ে বসেন ওডিয়েন। তবু শেষ দুই বলে ১২ রান বাকি থাকায় জয়ের পাল্লা ভারী ছিল পাঞ্জাবের দিকেই। কিন্তু ভিন্ন ভাবনাই ছিলো গুজরাটের ব্যাটার রাহুল তেওয়াতিয়ার। সেই ওভারের পঞ্চম ও শেষ বলে যথাক্রমে ডিপ মিড উইকেট ও কাউ কর্নার দিয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে গুজরাটকে শ্বাসরুদ্ধকর এক জয় এনে দেন তেওয়াতিয়া। যার সুবাদে টানা তিন জয়ে হ্যাটট্রিক করে ফেললো গুজরাট।

১৯০ রানের বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ঝড় তোলেন ডানহাতি ওপেনার শুভমান গিল। তবে তাকে প্রত্যাশামাফিক সঙ্গ দিতে পারেননি আরেক ওপেনার ম্যাথু ওয়েড। চতুর্থ ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে ৭ বলে মাত্র ৬ রান করেন এ অসি উইকেটরক্ষক ব্যাটার। এরপর আইপিএলে অভিষিক্ত সাই সুদর্শনকে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে দলকে জয়ের তরীতে তুলে দেন শুভমান। এ দুজনের জুটিতে আসে ১১.২ ওভারে ১০১ রান। দলীয় ১৩৩ রানের মাথায় ৩০ বলে ৩৫ রান করে আউট হন সুদর্শন। তবে থামেননি তরুণ ডানহাতি ওপেনার শুভমান।

মাত্র ২৯ বলে ৭ চার ও ১ ছয়ের মারে ফিফটি পূরণের পর সেঞ্চুরির দিকেই এগোচ্ছিলেন শুভমান। কিন্তু ১৮তম ওভারে তার বিদায়ঘণ্টা বাজিয়ে দেন কাগিসো রাবাদা। আউট হওয়ার তার ব্যাট থেকে আসে ৫৯ বলে ৯৬ রানের ঝকঝকে ইনিংস। তার বিদায়ের পর ৭ বলে ২০ রান বাকি থাকে গুজরাটের। যা আরও কঠিন হয় শেষ ওভারের প্রথম বলেই হার্দিক ১৮ বলে ২৭ রান করে আউট হয়ে গেলে। তবে তেওয়াতিয়ার বীরত্বপূর্ণ ব্যাটিংয়ে শেষ বলে ম্যাচ জিতে নেয় গুজরাট। মাত্র ৩ বল খেলে ১৩ রানে অপরাজিত থাকেন তেওয়াতিয়া, ডেভিড মিলার করেন ৪ বলে ৬ রান।

এর আগে মুম্বাইয়ের ব্রাবোর্ন স্টেডিয়ামে পাঞ্জাব কিংসের বিপক্ষে টস জিতে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন গুজরাট অধিনায়ক হার্দিক পান্ডিয়া। সিদ্ধান্তের যথার্থতা প্রমাণ করতে মাত্র ৬ বল সময় নেন হার্দিক। দ্বিতীয় ওভারে আক্রমণে এসে শেষ বলেই ফিরিয়ে দেন পাঞ্জাব অধিনায়ক মায়াঙ্ক আগারওয়ালকে। আউট হওয়ার আগে মায়াঙ্কের ব্যাট থেকে আসে ৯ বলে ৫ রান। এরপর হতাশ করেন পাঞ্জাবের হয়ে অভিষিক্ত ব্যাটার জনি বেয়ারস্টোও। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে ৮ বলে মাত্র ৮ রান করেন তিনি। পাওয়ার প্লে’তে ৪৩ রান করতে পারে পাঞ্জাব।

তৃতীয় উইকেট জুটিতে দলকে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন শিখর ধাওয়ান ও লিয়াম লিভিংস্টোন। এ দুজন মিলে ৫.২ ওভারে গড়েন ৫২ রানের জুটি। ইনিংসের ১১তম ওভারে সাজঘরে ফেরার আগে ৩০ বলে ৪ চারের মারে ৩৫ রান করেন ধাওয়ান। এই চারটি চারের সুবাদে বিশ্বের মাত্র পঞ্চম ব্যাটার হিসেবে স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার চারের মালিক হন ধাওয়ান। তার আগেই এই কীর্তি গড়তে পেরেছেন ক্রিস গেইল, অ্যালেক্স হেলস, ডেভিড ওয়ার্নার ও অ্যারন ফিঞ্চ।

ধাওয়ান ফেরার পর আর কেউই ধরে খেলার চেষ্টা করেননি। বরং উইকেটে এসেই চালিয়ে খেলে বাড়িয়েছেন রান রেট। একের পর এক চার-ছয়ের মারে গুজরাটের বোলারদের ছাতু বানিয়ে মাত্র ২১ বলে ফিফটি তুলে নেন লিভিংস্টোন। তবে বেশি দূর যাওয়া হয়নি তার। রশিদ খানের বলে ডেভিড মিলারের অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হওয়ার আগে ৭ চার ও ৪ ছয়ের মারে ২৭ বলে ৬৪ রান করেন লিভিংস্টোন। এছাড়া জিতেশ শর্মা ১১ বলে ২৩ ও শাহরুখ খান করেন ৮ বলে ১৫ রান।

ইনিংসের ১৮তম ওভারে দলীয় ১৬২ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ফেলেছিল পাঞ্জাব। সেখান থেকে শেষ দুই ব্যাটার আর্শদ্বীপ সিং ও রাহুল চাহার মিলে ১৩ বলে যোগ করেন আরও ২৭ রান। রাহুল ১৪ বলে ২২ ও আর্শদ্বীপ করেন ৫ বলে ১০ রান। গুজরাটের পক্ষে বল হাতে ৪ ওভারে মাত্র ২২ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়েছেন রশিদ খান। এছাড়া আইপিএলের অভিষিক্ত দর্শন নালকান্দের শিকার ২টি উইকেট।

কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত প্রদান করুন।

About Cricvive Desk

Cricvive is a sports media company that produces original video, audio, and written content for cricvive.com and other media partners, as well as the general public and news organizations.

Check Also

আইপিএল আমাদের জন্য স্বপ্ন: বালবির্নি

বিশ্বের অনেক ক্রিকেটারের মতো ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলার সাধ জাগে আয়ারল্যান্ডের ক্রিকেটারদেরও। যদিও এখনই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.