Breaking News

বাংলাদেশ হেরে গেল চাকাভা আর ‘রাজা’র রাজত্বে

অভিষিক্ত টনি মুনিয়ঙ্গার ব্যাটের আঘাতে আফিফ হোসেনের করা বলটি উড়ে উড়ে সীমানার বাইরে যেতেই হারারে স্টেডিয়ামের গ্যালারি নেচে উঠল। হাজার হাজার দর্শক প্রত্যক্ষ করল শক্তিশালী ওয়ানডে দল হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশকে কীভাবে মাটিতে নামিয়ে আনলেন সিকান্দার রাজা আর রেজিস চাকাভা। এ যেন প্রথম ম্যাচেরই পুনরাবৃত্তি। বাংলাদেশর দেওয়া বড় টার্গেট তাড়ায় নেমে শুরুতে বিপর্যয়; পরে দারুণ জুটিতে পৌঁছে যাওয়া জয়ের বন্দরে।

৫ উইকেটের এই জয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত করল জিম্বাবুয়ে। ৯ বছর বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল আফ্রিকার দরিদ্র দেশটি।
রান তাড়ায় নেমে ইনিংসের তৃতীয় বলেই প্রথম উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। এক বছর পর দলে ফেরা পেসার হাসান মাহমুদের বলে মুশফিকের তালুবন্দি হন তাকুদজোয়ানাশে কাইতানো (০)। ফিরতি ওভারে হাসান মাহমুদ তুলে নেন প্রথম ম্যাচের অন্যতম নায়ক সেঞ্চুরিয়ান ইনোসেন্ট কাইয়াকে (৭)। স্বাগতিকদের তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটান মেহেদি মিরাজ। তার বলে ওয়েসলি মাধভেরে (২) লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়লে ২৭ রানে ৩ উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে। উইকেটে আসেন সিকান্দার রাজা। ইনিংসের ১৫তম ওভারের বোলিংয়ে এসেই শিকার ধরেন তাইজুল। ফেরান ৪২ বলে ২৫ রান করা মারুমানিকে।

জিম্বাবুয়ের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটে ৪৯ রানে। এমতাবস্থায় অধিনায়ক রেজিস চাকাভাকে নিয়ে ঘুরে দাঁড়ান সিকান্দার রাজা। হাত খুলে মারতেও শুরু করেন। ২৪.৩ ওভারে একশ ছাড়ায় জিম্বাবুয়ের স্কোর। ব্যক্তিগত ৪৩ রানে মিরাজের ভুলে জীবন পাওয়া রাজা ৬৭ বলে ফিফটি পূরণ করেন। আর বিধ্বংসী মেজাজে চাকাভা ফিফটি পূরণ করেন ৩৬ বলে। ম্যাচের এমন অবস্থায় বাংলাদেশ ব্যাকফুটে চলে যায়। তাসকিনের করা ৩০তম ওভারে চার বাউন্ডারিতে ১৮ রান নেন চাকাভা। ৩৮তম ওভারে দুইশ ছাড়ায় জিম্বাবুয়ের স্কোর।

১১৫ বলে টানা দ্বিতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেন সিকান্দার রাজা। এর পরপরই হাসান মাহমুদকে ছক্কা মেরে ৭৩ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন চাকাভা। ১৬৮ বলে ২০১ রানের এই জুটির অবসান হয় ৭৫ বলে ১০ চার ২ ছক্কায় ১০২ রান করা চাকাভার বিদায়ে। জিম্বাবুয়ে তখন জয় থেকে ৪১ রান দূরে। বাকি কাজটা করে দেন রাজা এবং অভিষিক্ত টনি মুনিয়ঙ্গা। ১২৭ বলে ৮ চার এবং ৪ ছক্কায় ১১৭* রানে অপরাজিত থাকেন রাজা। আর অভিষিক্ত মুনিয়াঙ্গা ১৬ বলে ২ চার ২ ছক্কায় অপরাজিত ৩০* রান করে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ১৫ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় জিম্বাবুয়ে। ২টি করে উইকেট নিয়েছেন হাসান মাহমুদ আর মেহেদি মিরাজ।

এর আগে হারারে স্পোর্টস ক্লাব গ্রাউন্ডে আজ রবিবার অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেটে ২৯০ রান তোলে বাংলদেশ। তামিম ইকবাল আর এনামুল হক বিজয় গড়েন ৭১ রানের ওপেনিং জুটি। ৪৫ বলে ১০ চার ১ ছক্কায় ৫০ করে তামিম আউট হলে জুটি ভাঙে। স্কোরবোর্ডে ৬ রান যোগ হতেই রান-আউট হয়ে যান ২৫ বলে ২০ রান করা বিজয়। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত (৩৮) আর মুশফিকুর রহিম (২৫) গড়েন ৫০ রানের জুটি। দুজনেই শিকার হন ওয়েসলি মাধভেরের।

১৪৮ রানে চার টপ অর্ডারকে হারানোর পর অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে যোগ দেন তরুণ আফিফ হোসেন। দ্রুতই জমে ওঠে তাদের জুটি। ধীরগতির মাহমুদউল্লাহর বিপরীতে আগ্রাসী ব্যাটিং করছিলেন আফিফ। ৮১ রানের পঞ্চম উইকেট জুটি ভাঙে সিকান্দার রাজার বলে ৪১ বলে ৪১ করা আফিফের বিদায়ে। এরপরেই ৬৯ বলে তিন চারে ক্যারিয়ারের ২৬তম ফিফটি তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ। শেষ পর্যন্ত তিনি ৮৪ বলে ৩ চার ৩ ছক্কায় ৮০* রানে অপরাজিত থাকেন। ৫৬ রানে ৩ উইকেট নেন সিকান্দার রাজা। ওয়েসলি মাধভেরে নিয়েছেন ২টি।

কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত প্রদান করুন।

About Dipok Deb Nath

Check Also

T20I ক্রিকেটে বাবর আজম ভেঙে দিলেন কোহলির এই বিরাট রেকর্ড

বিরাট কোহলিকে হারিয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন বাবর আজম, এই খেলোয়াড় টি-টোয়েন্টিতে দ্রুততম ৮ হাজার রান করলেন। প্রতিনিয়ত …

Leave a Reply

Your email address will not be published.