Breaking News

অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে ২০ আর ৪০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটালো পাকিস্তান

দুই নাকি তিন? ২১০ তাড়া করতে নামা পাকিস্তান ইনিংসের ১০ ওভার পেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে এই প্রশ্নই জাগছিল মনে। প্রথম দুই ম্যাচে শতক পাওয়া ইমাম-উল-হকের হ্যাটট্রিক হবে, নাকি দ্বিতীয় ম্যাচে ম্যাচ জেতানো শতক উপহার দেওয়া বাবর আজম পাবেন টানা দ্বিতীয় শতকের দেখা?

অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা তাঁদের পথে বাধা হতে পারবেন, সে চিন্তা মাথায় জায়গাই পাচ্ছিল না। এতটাই অনায়াসে খেলছিলেন দুজন। অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া লক্ষ্য এমন ছিল যে, দুজনের পক্ষে শতক পাওয়া সম্ভব নয়। নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বৈরথে জিতেছেন বাবর। অধিনায়কের শতকে ৭৩ বল আগেই ৯ উইকেটের জয় পেয়েছে পাকিস্তান। আর এতে পেয়েছে প্রায় ভুলে যাওয়া এক স্বাদও। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়।

যে ঘটনা এর আগে ঘটেছিল সেই ২০০২ সালে। অর্থাৎ ২০ বছর আগে। বিশ বছর আগে ও পরের দুটি সিরিজে আরেকটি মিলও আছে। এবারের মতো সেবারও প্রথম ম্যাচে হারার পর বিপুল বিক্রমে ফিরে পরের দুই ম্যাচ জিতে সিরিজ জয়ের হাসি হেসেছিল পাকিস্তান। নিজেদের দেশে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে একাধিক ম্যাচে পাকিস্তানের সিরিজ জয়ের কথা বললে পিছিয়ে যেতে হবে আরও ২০ বছর। অবিশ্বাস্যই লাগে, পাকিস্তান ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জিতল কিনা ৪০ বছর পর!

প্রথম দুই ম্যাচে লাহোরের উইকেটে রানবন্যা হয়েছে। প্রথম ম্যাচে ব্যাটিং ব্যর্থতা পাকিস্তানকে ৮৮ রানের হার উপহার দিয়েছে। দ্বিতীয় ম্যাচে আর সে ভুল করেনি পাকিস্তান। ৩৪৮ রান করেও অস্ট্রেলিয়া বাঁচতে পারেনি। ওয়ানডেতে নিজেদের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি রান তাড়া করার রেকর্ড গড়ে পাকিস্কান জিতেছিল ৬ উইকেটে। আজ তৃতীয় ম্যাচে অস্ট্রেলিয়া এর চেয়ে বড় লক্ষ্য দেওয়ার চিন্তা করে থাকলে সেটা প্রথম দুই ওভারেই উধাও।

দুই ওপেনার যে দলকে শূন্য রানে রেখেই আউট! দিনের প্রথম বলেই ট্রাভিস হেডের স্টাম্প উপড়ে নিয়েছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। পরের ওভারে অ্যারন ফিঞ্চকে এলবিডব্লু করেছেন হারিস রউফ। প্রথম ম্যাচে ২৩ রান করা ফিঞ্চ পরের দুই ম্যাচেই শূন্য নিয়ে ফিরলেন। এতে একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডে নাম উঠেছে তাঁর। অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক হিসেবে তিন বা এর বেশি ম্যাচের সিরিজে ফিঞ্চের চেয়ে কম রান করার রেকর্ড মাত্র দুজনের।

তাঁর চেয়ে কম গড়ে রান করার ঘটনাও মাত্র দুটি। ব্যক্তিগত রেকর্ডের সঙ্গে দলীয় এক রেকর্ডও নিশ্চিত করেছেন ফিঞ্চ। ওয়ানডেতে একই ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার শূন্য রানে আউট হয়েছেন এর আগে মাত্রই একবার। ২০০৬ সালে ব্রিসবেনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ও সাইমন ক্যাটিচ। ষষ্ঠ ওভারেই আরেকটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের খোঁজ পড়ল। ১০ বলে ৪ রান করে মারনাস লাবুশেন যখন ফিরে গেলেন দলকে ৬ রানে রেখে।

ওয়ানডেতে এর চেয়ে কম রানে মাত্র একবারই ৩ উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। সে ঘটনাও ২০০৬ সালের। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কেপটাউনে ৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ভুলে যাওয়া সব স্মৃতি জাগানো এমন শুরুর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি অস্ট্রেলিয়া। প্রতি আক্রমণ করে মার্কাস স্টয়নিস ও বেন ম্যাকডারমট ৪৬ বলে ৫৩ রান এনে দিয়েছিলেন। কিন্তু ৮ রানের মধ্যে স্টয়নিস (১৯) ও ম্যাকডারমট (৩৬) ফিরে গেলে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর দাঁড়ায় ৬৭/৫।

৮১ রানের জুটি গড়া অ্যালেক্স ক্যারি ও ক্যামেরন গ্রিনও (৩৪) বিদায় নিয়েছেন ৭ রানের মধ্যে। ১৮ ওভার বাকি থাকতে সপ্তম ব্যাটসম্যান হিসেবে ক্যারির ড্রেসিংরুমে ফেরার পর অস্ট্রেলিয়ার এ ম্যাচ থেকে আর কিছু পাওয়ার ছিল না। ৬১ বলে ৫৬ করার ক্যারি চলে যাওয়ার পর শন অ্যাবট নিজের পাওয়ার হিটিং ক্ষমতা দেখিয়েছেন। তাঁর ৪০ বলে ৪৯ রানের ইনিংসই অস্ট্রেলিয়াকে দুই শ পার করিয়েছে। পাকিস্তানের হারিস রউফ ও মোহাম্মদ ওয়াসিম জুনিয়র ৩ উইকেট করে পেয়েছেন।

আফ্রিদি পেয়েছেন ২ উইকেট। লাহোরের উইকেটে মাত্র ২১১ রানের লক্ষ্য। তেড়েফুঁড়েই শুরু করেছিলেন ফখর জামান। কিন্তু নাথান এলিসের অফ কাটারে বিভ্রান্ত হলে ১২ বলে ১৭ রানে থেমে যায় তাঁর ইনিংস। ২৪ রানে প্রথম উইকেটের দেখা পাওয়া অস্ট্রেলিয়ান বোলাররা আর একবারও উল্লাসে মেতে ওঠার সুযোগ পাননি। ইমাম ও বাবর শুরুতে পাল্লা দিয়ে রান তুলছিলেন। পঞ্চাশে বাবর আগে পৌঁছালেও অর্শ শতক ছোঁয়ার মুহূর্তে ইমামের স্ট্রাইকরেটই বেশি ছিল।

কিন্তু এক পর্যায়ে বাবরের কাছে হার মেনেছেন ইমাম। বাবরের দুর্দান্ত স্ট্রোক প্লে তাঁকে শতকের দৌড়ে এগিয়ে দিয়েছে। ১২ চার ও এক ছক্কায় ১১৫ বলে ১০৫ রানে অপরাজিত ছিলেন বাবর। আগের ম্যাচেই সবচেয়ে কম ইনিংসে ওয়ানডেতে ১৫টি সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েছেন। ১৬তম সেঞ্চুরিতেও দ্রুততম তিনিই, সেটা বোধহয় না বললেও চলছে। ইমামের ৮৯ রানের ইনিংসটি ছিল ১০০ বলের, যাতে চার ছিল মাত্র ৬টি, ছয় ১টি।

লক্ষ্যটা এতই কম যে, এখানে চার–ছয়ের ঝড় তোলার কোনো প্রয়োজনই পড়েনি।

কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত প্রদান করুন।

About Cricvive Desk

Cricvive is a sports media company that produces original video, audio, and written content for cricvive.com and other media partners, as well as the general public and news organizations.

Check Also

অধিনায়ক ওয়ার্নারকে ফেরাতে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে অস্ট্রেলিয়া

বল টেম্পারিং কাণ্ডের জন্য অধিনায়কত্ব করা থেকে স্টিভ স্মিথকে দুই বছরের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ক্রিকেট …

Leave a Reply

Your email address will not be published.